মধ্যরাতে তিতুমীর কলেজে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, হলভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবি

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজ-এ মধ্যরাতে ব্যতিক্রমধর্মী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস এলাকা। ছাত্রীনিবাস থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় “হল কারো বাপের না, ছাত্ররাজনীতি চলবে না”সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এ বিক্ষোভে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই অস্বস্তি তৈরি হয়। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে আবারও হলভিত্তিক দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কমিটির সমালোচনা করায় অন্তত তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নিরাপদ ও নিরপেক্ষ আবাসিক পরিবেশ চান। তাদের মতে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে হলে কোনো ধরনের দলীয় নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের সুযোগ কমে যায় এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিরোধও দেখা দেয়। পদবঞ্চিত একটি অংশ কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছিল। তবে এবারের ঘটনায় বিশেষ দিক হলো—দলীয় বিরোধ ছাড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা সরাসরি আন্দোলনে নেমেছেন।

কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষক ও হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, তিতুমীর কলেজে এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হয়েছে। বিশেষ করে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মধ্যরাতে ছাত্রীদের এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিনিধিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে দলীয় প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর।

বিক্ষোভ শেষে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বহিষ্কারের বিষয়টি সত্য হলে কিংবা হলভিত্তিক রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

নারী শিক্ষার্থীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কলেজের চলমান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495