যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে ইরান যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত- এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পর এই মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন দেশটির সামরিক প্রস্তুতি আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী।
দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে।
আরাগচি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি সামরিক বিকল্প পরীক্ষা করতে চায়, আগেও তারা তা করেছে, আমরাও প্রস্তুত আছি।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ‘বুদ্ধিমান পথ’ বেছে নেবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিক্ষোভ ও সহিংসতা প্রসঙ্গে আরাগচি দাবি করেন, আন্দোলনের ভেতরে ‘সন্ত্রাসী উপাদান’ ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরান সরকার সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সহিংসতায় শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত দেশটি টানা ৯৬ ঘণ্টা কার্যত অফলাইনে ছিল। এ বিষয়ে আরাগচি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিক্ষোভের আগে ও পরেও অব্যাহত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব ও হুমকি ইরানের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘হুমকি বা চাপ ছাড়া হলে আমরা পরমাণু আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি ন্যায্য ও সৎ আলোচনার জন্য প্রস্তুত?’
এর আগে রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে এবং ওয়াশিংটনকে ভুল হিসাব না করার হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরান প্রকাশ্যে যা বলছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় তাদের অবস্থান তার চেয়ে ভিন্ন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, একদিকে ট্রাম্প ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবও পর্যালোচনা করছে।