ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বন্ধই হয়ে গেলো মার্কিন এয়ারলাইন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০১:১০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষতির চাপে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস।

শনিবার (৩ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা তাদের সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত করছে।

স্বল্প খরচে বিমান ভ্রমণের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এই সংস্থার বিদায়কে মার্কিন বিমান চলাচল খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

স্পিরিট এয়ারলাইনস জানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই দফা দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় সংস্থাটি আর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে না। ইতোমধ্যে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ ডেভিস বলেন, ব্যবসা সচল রাখতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে স্পিরিট এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে চলতি বছরের শেষে সংস্থাটির ব্যয় আরও ৩৬০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যেত।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এই সংস্থাটিকে বাঁচাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রস্তাব করেছিলেন। এমনকি প্রয়োজনে সরকার ৯০ শতাংশ মালিকানা নেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছিল। তবে বন্ডধারীদের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন চুক্তি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি বাইডেন প্রশাসনের নীতিগত ব্যর্থতাকেও দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে জেটব্লুর সঙ্গে স্পিরিট এয়ারলাইনসের একীভূত হওয়ার প্রস্তাব আটকে না দেওয়া হলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৪ হাজার কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এর প্রভাব বৈশ্বিক বিমান খাতেও পড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডের রায়ানএয়ার ও এশিয়ার ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন সংস্থা এখন তাদের রুট কমানোর কথা ভাবছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495