হরমুজ ঘিরে ইরান-আমেরিকার গোলাগুলির পরই বেড়েছে তেলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (৮ মে) দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে চালানো “অপ্ররোচিত” হামলা তারা প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের জাহাজ নিরাপদে সরানোর সময় আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এই ঘটনার প্রভাব দ্রুতই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়ে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম আরও বেশি বৃদ্ধি পেলেও পরে কিছুটা কমে আসে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। তিনি জানান, আলোচনা এগিয়ে নিতে ২১ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, “আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে, তবে চুক্তি না হলে ইরানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”
তার দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জড়িত ছিল এবং ইরানের কয়েকটি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং পাল্টা আঘাতে ইরানি বাহিনী মার্কিন জাহাজে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি আরও বাড়াতে চায় না।
পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পরিস্থিতি এখন “স্বাভাবিক অবস্থায়” ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এমন সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো সংঘাত সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।