ইসকনকে ২ লাখ টাকায় ১২০ কোটির জমি দিয়েছে রাজউক
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মাত্র দুই লাখ টাকায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-কে বরাদ্দ দিয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় আদি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও শ্মশানের জন্য নির্ধারিত জমি থেকে তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৮৩ দশমিক ৩ কাঠা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৬-৬৭ কোটি টাকা, মাত্র এক লাখ টাকায় ইসকনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে প্রায় ৩৫ কাঠা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা, এক লাখ টাকার কিছু বেশি প্রতীকী মূল্যে একই সংস্থাকে দেওয়া হয়। ফলে মোট বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৮ কাঠারও বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য গাজীপুরের কয়েকটি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা ও ধর্মীয় স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের জন্য মন্দির ও শ্মশান নির্মাণে জমি নির্ধারণ করা হলেও সেই জমি আর তারা পায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির জমি বন্দোবস্তের আবেদনপত্র রাজউক থেকে ‘গায়েব’ করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে একই জমি ইসকনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালে তাদের আবেদন উপেক্ষা করে হঠাৎ করে ইসকনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে ইসকনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, তারা কোনো জমি দখল করেনি এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমি বরাদ্দ পেয়েছে। তাদের মতে, কিছু স্থানীয় ব্যক্তি উন্নয়নের কারণে জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে দাবি তুলছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একই সংস্থাকে একাধিকবার সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ হতে পারে এবং এতে অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরে মন্তব্য করবেন।
সার্বিকভাবে, জমি বরাদ্দ নিয়ে এই ঘটনা এখন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।