টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়া থেকে সরে আসবে সরকার: অর্থমন্ত্রী

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকার এখন বেরিয়ে আসতে চায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ ধরনের নীতি থেকে সরে আসা হবে না।

তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাত চাপের মুখে পড়ে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয় কাভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার এমন একটি নীতিগত কাঠামো অনুসরণ করতে চায় যেখানে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না এবং উদ্যোক্তাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না। এটি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি অল্প কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন বাড়ানো হচ্ছে, যা পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বেশি হলে জীবনমান কমে যায়। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে কার্যত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাত সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পাশাপাশি স্টার্টআপ, গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল খাতকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ পণ্যের নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহায়তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রীড়া, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতকেও নতুন অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপের মুখে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না।

তিনি বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি না এলে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পায়।

জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। বাজারকে চাহিদা ও সরবরাহের স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দিতে হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা থাকলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495