খুনি দিয়ে হত্যাচেষ্টা, সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের নিরাপত্তা চাইলেন জামায়াতের এমপি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
নেত্রকোনা–৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা পেশাদার খুনি ভাড়া করে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে রোববার (২৬ এপ্রিল) সংসদের কার্যপ্রণালির নিয়ম অনুযায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মাছুম মোস্তফা জানান, মাগরিবের আজানের পর তিনি সহযোগীদের নিয়ে একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন নামাজের স্থানে ইবাদতে যান। এ সময় বিএনপির পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি তার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, হামলার শব্দে তার সঙ্গীরা এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে হামলাকারীরা তিনি যে মসজিদে অবস্থান করছিলেন সেখানে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ সময় মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলে সেটি ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
মাছুম মোস্তফার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি আনা হয়েছিল। তবে মুসল্লিদের প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা সফল হতে পারেনি।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে তার মৃত্যু হলে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করতে হতো।
নিজের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জানান, বিষয়টি তার জানা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তবে সংসদ সদস্য দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র একজন তালিকাভুক্ত আসামি, বাকিরা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। প্রকৃত অপরাধীরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক এবং সরকার এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করবে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শেষে স্পিকার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।