৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এ উন্নয়ন বাজেট পাস হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিয়েই এবারের উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে এবার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে।
এবারের উন্নয়ন বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে ছয় হাজার আট কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ। মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিন লাখ কোটি টাকার এ উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।
বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও বড় বরাদ্দ পেয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নতুন এক হাজার ২৭৭টি অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ অবস্থায় আরও বড় বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।