ফরিদপুরে চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয় এবং সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইয়াছিন হোসেন ও শাকিল শেখ ওই কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে পাশের একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চৈত্রের তীব্র রোদে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। নির্যাতনকারীদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যও ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার কিশোর মো. হোসাইন (১৪) আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোছেন শেখের ছেলে।

ভাইরাল হওয়া প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কিশোরটিকে গাছের গোড়ায় বসিয়ে তার পায়ের পাতায় বারবার আঘাত করা হচ্ছে। পরে অন্য এক ব্যক্তি এসে একইভাবে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে কিশোরের দুই হাত পেছন থেকে বেঁধে দাঁড় করিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটানো হয়। মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও নির্যাতন করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ মোল্লা। তার সঙ্গে ছিলেন ইয়াছিন হোসেন, শাকিল শেখসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার কিশোর ঢাকার একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি বাড়িতে আসার পর ওই কারখানায় একটি ড্রিল মেশিন চুরির অভিযোগ তুলে তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোর জানায়, ঢাকায় থেকে বাড়ি ফেরার পরদিন তাকে ঘরে আটকে রাখা হয় এবং পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

কিশোরের মা বানু বেগম অভিযোগ করেন, ইয়াছিন হোসেন, শাকিল শেখসহ কয়েকজন মিলে তার ছেলেকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে আর সাড়া দেননি।

গ্রাম পুলিশ রাহাত ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ একজন নির্যাতনকারীসহ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের ছাড়িয়ে নেন।

তবে চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরের মা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ভাইরাল ভিডিও পর্যালোচনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495