যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ। দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার ও মাটিতে অবতরণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডিক্লাসিফাইড’, বেলজিয়ামের এনজিও ‘ভ্রেইডেসাক্টি’, আইরিশ গণমাধ্যম ‘দ্য ডিচ’ এবং ‘প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট’ বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের বিষয়টি ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ লিয়েজ বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে আসা দুটি চালান জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মালামাল পরীক্ষা করে বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জাম যথাযথভাবে ঘোষণা না দিয়েই পাঠানো হয়েছিল। ইতোমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, এতে যুক্ত রয়েছে মার্কিন অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠান ‘মুগ’। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটন কারখানা থেকে গত ডিসেম্বরেও বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব যন্ত্রাংশ ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর আওতায় রপ্তানি করা হচ্ছিল এবং সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একই পদ্ধতিতে অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ হয়ে ইসরায়েলে গেছে।

মুগ প্রতিষ্ঠানটি মূলত এম-৩৪৬ প্রশিক্ষণ বিমানের অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো নথি নেই।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন সরঞ্জামের লাইসেন্স স্থগিত থাকলেও এফ-৩৫ কর্মসূচির জন্য কিছু বিশেষ ছাড় বহাল রয়েছে।

এদিকে ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, জব্দ করা মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল। তবে এ ধরনের কোনো আবেদন করা হয়নি। আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রত্যাখ্যান করা হতো বলে জানিয়েছে বেলজিয়াম সরকার।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495