পলকের নির্দেশেই জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ, ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তার সাক্ষ্য

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশেই দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এই সাক্ষ্য দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া এই কর্মকর্তার পরিচয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।

মামলায় পলকের পাশাপাশি আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

জবানবন্দিতে ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে তৎকালীন কমিশনের মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান তাকে ফোন করে জানান, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পলক।

পরে অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য তাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি অফিসিয়াল নম্বর ব্যবহার করে ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’ নামে গ্রুপটি তৈরি করেন। এতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

গ্রুপ খোলার পর মহাপরিচালক গ্রুপ কলে অপারেটরদের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আপস্ট্রিম বন্ধ করার কথা জানান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা ২৩ জুলাই পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ২৩ জুলাই প্রতিমন্ত্রী পলক আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সীমিত আকারে ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ৩১ জুলাই বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও সাক্ষ্যে উঠে আসে।

সাক্ষীর জবানবন্দি অসম্পূর্ণ থাকায় শুনানি আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম ও সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495