সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন গ্রেফতার
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে পুলিশ এই আবেদন করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। বিচারক আরিফুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার তুহিনকে মিরপুর মডেল থানার একটি মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম আবেদনে উল্লেখ করেন, সাবিনা আক্তার তুহিন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানার পৃথক একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
নতুন আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রির সময় বাদী ও তার শ্যালক মো. সিরাজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতার মধ্যে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা রাইফেল, বন্দুক ও পিস্তল দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই সময় রাবার বুলেটের আঘাতে বাদী আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যান।
একই ঘটনায় বাদীর শ্যালক মো. সিরাজ টিয়ারশেলের আঘাতে দুই চোখে গুরুতর জখম হন এবং গুলিতে তার বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে সাবিনা আক্তার তুহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে তাকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।