ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীরের বন্ধু মৃদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃদুলও একই সেনা শিবিরে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।
পরিবারের অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্র ও ভিডিও বার্তা থেকে জানা যায়, গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল দাবি করেন, একটি নিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যায়। সেই প্রতিষ্ঠানের কারণেই তিন বন্ধুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মো. রমজান জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে চাকরির কথা বলে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রথমে তাকে একটি শূকরের খামারে কাজ দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রেস্তোরাঁয় চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, জোরপূর্বক তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রায় দুই মাস প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই ড্রোন হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীরসহ তিন বাংলাদেশি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। দুই বছর আগে তার বাবা মারা যান। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্বজনরা জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু তার স্ত্রী জানতেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের তিনি কিছু জানাননি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন যোগাযোগের বাইরে থাকবেন।
জয়কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল কবির বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।