ছেলের মোটরসাইকেলের জ্বালানি নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ালেন মা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে, যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে ছেলের মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এক মাকে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকার ডেমলা ফিলিং স্টেশনে।
বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য তেল নেওয়ার লাইনে অপেক্ষা করছেন। জ্বালানি না পেয়ে আপাতত মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন সাগর। সংসারের চাপ সামাল দিতে ছেলের পেশা সচল রাখতে নিজেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তার মা।
বিথিকা রানী বৈদ্য জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। তবে কয়েকদিন ধরে তেল না পাওয়ায় সে বাধ্য হয়ে মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, টানা দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাননি। পরে আবার তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে নতুন করে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে টানা পাঁচ দিন তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সীমিত পরিসরে পুনরায় তেল বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিয়নে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নেও আবার তেল দেওয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার পর টানা পাঁচ দিন তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল চালকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, যা তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৭টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তেল সরবরাহ করা হয়। এরপর সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালীদের নিয়ম ভেঙে তেল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই নিশ্চিত নন তারা আদৌ তেল পাবেন কিনা।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পরিষদের সমন্বয়ে পুনরায় তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।