বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছে সেতুমন্ত্রী অবরুদ্ধ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফলে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার দুপুরে বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান সেতুমন্ত্রী। পরে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন তিনি। সভাটির আয়োজন করেন জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তবে মন্ত্রীর ওই সভায় যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের সহায়তায় একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান সেতুমন্ত্রী। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।
মন্ত্রীর সঙ্গে পটুয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার এবং জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, বগা সেতু নির্মাণ হলে এর রাজনৈতিক সুবিধা পাবে জামায়াত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী মহিলা দলের সদস্য নাজমুন্নাহার নাজু বলেন, সেতু নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে। জনগণের স্বার্থেই দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
এ ঘটনায় সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিংবা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, সভার ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ কারণেই তারা মন্ত্রীকে সভামঞ্চে যেতে বাধা দেন।