আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষক রনির মৃত্যুদণ্ড
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলার সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই একই রাতে আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত এবং মা একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, অদিতা আগে রনির কাছে প্রাইভেট পড়তেন। পরে অন্যত্র পড়াশোনা শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অদিতাকে হত্যা করে ঘটনাস্থল এলোমেলো করে দুর্ঘটনার ছাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঁচড়ের দাগ এবং পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৪১ জন ও আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি সমাজে অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।