ফেসবুকে গণভোটের দাবি এক ঘণ্টার মাথায় আদিতমারী ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘গণভোট’ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতা। বহিষ্কৃত রাকিবুল হাসান উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি গত জুলাইয়ের গণআন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমরুল হাসান মোল্লার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দলের অন্য নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে রাকিবুল হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘MD Rakibull Hasan’ থেকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেন।’ এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দলীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর ঠিক এক ঘণ্টার মাথায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ সাদিকুল ইসলাম পাভেল ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর খানের অনুমোদনে তাকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
সক্রিয় ছাত্ররাজনীতি ও জুলাই আন্দোলন রাকিবুল হাসান দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে গত জুলাইয়ের আন্দোলনে লালমনিরহাট জেলা শহর ও আদিতমারী এলাকায় রাজপথে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল পর্যায়ে একজন পরিশ্রমী কর্মী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতার প্রতিক্রিয়া হঠাৎ এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে হতবাক রাকিবুল হাসান। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “স্কুলজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলের আপসহীন অবস্থান আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। দশম শ্রেণি থেকেই সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করছি এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলাম। আমি কেবল দেশের মানুষের স্বার্থে গণভোটের কথা বলেছি। কিন্তু একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আমাকে এভাবে বহিষ্কার করা হবে, তা ভাবিনি।”
এই বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই দ্রুত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।