বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করে প্রশাসন।
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম। ডাকসুর সহসভাপতি হিসেবে তিনি ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়ন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতির নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই বর্ষীয়ান নেতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।