রাজিবপুরে

গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে শোকজ, তদন্তে চার সদস্যের কমিটি

মো. সাব্বির মামুন

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় এক বৃদ্ধের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজিবপুর  উপজেলা ছাত্রদল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. মফিজুল হক। তিনি উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মফিজুল হককে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্বশরীরে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটিকেও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।  

ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটাং পাড়া গ্রামের মো. ওমর আলীর (৬৫) গোয়ালঘরে চুরির উদ্দেশ্যে একদল লোক প্রবেশ করে।

বিষয়টি টের পেয়ে বৃদ্ধ ওমর আলী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মফিজুল হককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই বৃদ্ধের হাতের আঙুল মুচড়ে দিয়ে পালিয়ে যান মফিজুল।

পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একটি বাজারে গিয়ে বৃদ্ধ ওমর আলীকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ এবং ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে।

থানায় অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধের ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে মফিজুল হকসহ চারজনকে আসামি করে স্থানীয় ঢুষমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল হোসেন বলেন, "অভিযুক্ত মফিজুল নেশা ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই সে গভীর রাতে আমাদের গোয়ালঘরে চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকে। আমার বাবা বাধা দিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মফিজুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495